বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল ও ভারতের উত্তরবঙ্গে টানা বৃষ্টিপাতের ফলে তিস্তা নদীর পানি আবারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। উজানের জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও মেখলিগঞ্জে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় ভারতের মেখলিগঞ্জ পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে দেখা যায়।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, গত ৪৮ ঘণ্টায় তিস্তার পানি ৩৫ সেন্টিমিটার বেড়েছে। নীলফামারীর ডালিয়া তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে সকাল ৬টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত মাত্র ৯ ঘণ্টায় পানি ১৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার মাত্র ০.৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
সতর্কাবস্থা ও ব্যবস্থাপনা
তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে—এমন আশঙ্কায় ডালিয়া ব্যারাজের সবগুলো ৪৪টি স্লুইচগেট খুলে দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে তিস্তা অববাহিকায় কমলা সতর্কাবস্থা জারি করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
এদিকে, ভারতের গোজলডোবা ব্যারাজ থেকে গত কয়েকদিনে দফায় দফায় কয়েক হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হচ্ছে। শুধুমাত্র রবিবার সকাল ও দুপুরে প্রায় ৩ হাজার ৭০০ কিউসেক পানি ছাড়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি
বাংলাদেশের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় তিস্তার পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, রংপুর, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাট জেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে তিস্তাপাড়ের কৃষক পরিবারগুলোতে উদ্বেগ বাড়ছে। আগস্ট মাসে চার দফা বন্যায় আমন ক্ষেত নষ্ট হওয়ার পর তারা পুনরায় চারা রোপণ করেছিলেন। কিন্তু আবার বন্যা হলে তাদের ফসল নষ্ট হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন জানান, গত বন্যায় তার ইউনিয়নে প্রায় ২০ হেক্টর জমির আমন ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পূর্বছাতনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান জানান, তার ইউনিয়নে প্রায় ৫০ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছিল। খগাখড়িবাড়ি, খালিশাচাঁপানী ও ঝুনাগাছ চাঁপানী এলাকায়ও প্রায় সমপরিমাণ ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে।
সতর্কবার্তা
বাংলাদেশের পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, তিস্তার পানি যেকোনো সময় বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। অন্যদিকে ভারতের মেখলিগঞ্জে ইতোমধ্যে লাল সংকেত জারি করা হয়েছে।

إرسال تعليق