ডিমলা উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে অনিয়ম-দুর্নীতি ও অনুপস্থিতি নিয়ে ভোগান্তি

নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি:- 

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে নিয়মিত অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এমজি ফারুক হোসেন চৌধুরী প্রায় দিনই অফিসে অনুপস্থিত থাকায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তিনি সপ্তাহে অন্তত দুই দিন অফিসে অনুপস্থিত থাকেন। এর ফলে সরকারি আর্থিক নথিপত্র, বিল-ভাউচার ও বেতন-ভাতার কাগজপত্রে স্বাক্ষর বিলম্বিত হচ্ছে। শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অবসরে যাওয়া কর্মচারীরাও নিয়মিত হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

শুধু তাই নয়, সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ— ঘুষ ছাড়া কোনো বিল-ভাউচার অনুমোদন করা হয় না। স্থানীয় কর্মচারীদের মতে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অফিস খোলা থাকার কথা থাকলেও ডিমলার হিসাবরক্ষণ অফিস প্রায় দিনই সকাল ১০টা থেকে ১২টার পর খোলা হয়। ফলে প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আসা সেবা গ্রহীতাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় কিংবা খালি হাতে ফিরে যেতে হয়।

ভুক্তভোগী ইদ্রিস আলী অভিযোগ করে বলেন, “অফিসে কর্মকর্তাকে পাওয়া যায় না। কাজ করতে গেলে নিয়মিত টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে ফাইল আটকে রাখা হয়।”
আরেকজন ভুক্তভোগী ফজলুল হক বলেন, “সরকারি অফিসে ঘুষ এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। টাকা না দিলে নথিপত্রে স্বাক্ষর পর্যন্ত করা হয় না।”

অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ডিমলা উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে এসএএস সুপারিনটেনডেন্ট পদটি শূন্য রয়েছে। এই পদে থাকা কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহমান রাজশাহীতে উচ্চতর প্রশিক্ষণে থাকায় পুরো দায়িত্ব এখন ফারুক হোসেন চৌধুরীর ওপর। অভিযোগ আছে, তিনি বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার পর অফিস ত্যাগ করেন এবং রবিবার সম্পূর্ণ অনুপস্থিত থাকেন। সোমবারও দুপুরের পর অফিসে আসেন। ফলে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত কার্যত অফিসে কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা থাকেন না।

অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এমজি ফারুক হোসেন চৌধুরী বলেন,
“আমি নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থাকি। ব্যক্তিগত কারণে কোনো দিন দেরি হলে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। যারা অভিযোগ করছেন, তারা ব্যক্তিগত স্বার্থে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।”

প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

এ বিষয়ে ডিমলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমরানুজ্জামান বলেন,
“অফিসে কর্মকর্তার অনিয়মিত উপস্থিতির বিষয়ে অভিযোগ পেলে তা খতিয়ে দেখা হবে। সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি দূর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

রংপুর বিভাগীয় হিসাব নিয়ন্ত্রক (ডিসিএ) মোহাম্মদ শাহজাহান জানান,
“ডিমলা উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে কর্মকর্তার অনিয়মিত উপস্থিতি ও দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সচেতন মহলের দাবি

সচেতন মহল বলছে, গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক দপ্তর হিসেবে উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে অনুপস্থিতি ও ঘুষের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তাই দ্রুত তদন্ত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।




0 Comments

Post a Comment

Post a Comment (0)

Previous Post Next Post