মোঃ নয়ন ইসলাম, নিলফামারী জেলা প্রতিনিধিঃ
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় নবম শ্রেণীতে পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রীকে (১৫) পাঁচ ঘণ্টা আটকে রেখে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় দুই যুবককে অভিযুক্ত করে ডিমলা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভিকটিম ওই কিশোরী বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে ডাক্তারি পরীক্ষার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার খালিশা চাপানী ইউনিয়নের তালতলা সরকারপাড়া গ্রামের ওই কিশোরী দীর্ঘদিন ধরে নানার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করে আসছিল। ঘটনার দিন রোববার (৫ এপ্রিল) সকালে তার নানী এবং মা চিকিৎসার জন্য রংপুরে যান। বাড়িতে ভিকটিম ও তার ছোট বোন একা ছিল।
অভিযোগ অনুযায়ী, এই সুযোগে ওই দিন দুপুর ২টার দিকে একই গ্রামের কাজল রানা (২১) ও মুন্না ইসলাম মান্নান (২৪) মেয়েটিকে ফুসলিয়ে পার্শ্ববর্তী একটি ভুট্টা ক্ষেতে নিয়ে যায়। সেখানে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত তাকে আটকে রেখে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়। সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলেও মেয়েটি বাড়িতে না ফেরায় স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন এবং একপর্যায়ে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
আইনি ব্যবস্থা
রোববার গভীর রাতে নানী বাড়ি ফিরে ঘটনাটি জানতে পারেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে নাতনিকে নিয়ে ডিমলা থানায় হাজির হন। সোমবার (৬ এপ্রিল) তিনি বাদী হয়ে কাজল রানা ও মুন্না ইসলাম মান্নানের বিরুদ্ধে একটি গণধর্ষণ মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-৫)।
মামলার আসামীরা হলেন:
- কাজল রানা (২১): পিতা- রবিউল ইসলাম শুকারু।
- মুন্না ইসলাম মান্নান (২৪): পিতা- বরকত আলী।
পুলিশের বক্তব্য
ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শওকত আলী সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান:
"ভুক্তভোগী ছাত্রীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে নেমেছে। আশা করছি দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।"
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়রা অভিযুক্তদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Post a Comment